Napa Suppository
250mgজ্বর, সর্দিজ্বর, ইনফ্লুয়েঞ্জা, মাথাব্যথা, দাঁতব্যথা, কানের ব্যথা, শরীর ব্যথা, স্নায়ুপ্রদাহজনিত ব্যথা, ঋতুস্রাবজনিত ব্যথা, মচকে যাওয়ার ব্যথা, অন্ত্রে অস্ত্রোপচার পরবর্তী ব্যথা, প্রসব পরবর্তী ব্যথা, ক্যান্সারজনিত ব্যথা এবং শিশুদের টিকা দেওয়ার পর সৃষ্ট জ্বর ও ব্যথায় নির্দেশিত। এছাড়াও বাত ও অস্টিওআর্থ্রাইটিস এর ব্যথা নিরাময়ে এটি অত্যন্ত কার্যকর।
প্যারাসিটামল একটি এনালজেসিক (ব্যথানাশক) এবং অ্যান্টিপাইরেটিক (জ্বরনাশক) বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ওষুধ। এটি মূলত কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে প্রোস্টাগ্লান্ডিন সংশ্লেষণে (Prostaglandin synthesis) বাধা দেওয়ার মাধ্যমে ব্যথার অনুভূতি কমায়। পাশাপাশি এটি মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামিক হিট-রেগুলেটিং সেন্টারে কাজ করে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। সেবনের পর এটি পরিপাকতন্ত্র থেকে দ্রুত ও সম্পূর্ণভাবে শোষিত হয় এবং লিভারে মেটাবোলাইজ হয়ে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে নিষ্কাশিত হয়।
- প্রাপ্তবয়স্ক: ১-২ টি ট্যাবলেট (৫০০-১০০০ মি.গ্রা.) দিনে ৩ থেকে ৪ বার। (সর্বোচ্চ ৪ গ্রাম বা ৮টি ট্যাবলেট প্রতিদিন)।
- শিশু (৬-১২ বছর): আধা থেকে ১টি ট্যাবলেট দিনে ৩ থেকে ৪ বার।
- শিশু (১-৫ বছর): ১২৫-২৫০ মি.গ্রা. সিরাপ বা সাসপেনশন দিনে ৩ থেকে ৪ বার।
- নবজাতক ও শিশু: সাধারণত ১০-১৫ মি.গ্রা./কেজি হিসেবে দিনে ৩-৪ বার দেওয়া হয়।
দ্রষ্টব্য: দুই ডোজের মধ্যবর্তী বিরতি অন্তত ৪ ঘণ্টা হতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া একটানা ৩ দিনের বেশি সেবন করা উচিত নয়।
যাদের প্যারাসিটামল বা এর যেকোনো উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা (Hypersensitivity) বা অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
অনুমোদিত মাত্রায় প্যারাসিটামলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুবই বিরল। তবে কারো কারো ক্ষেত্রে চামড়ায় লালচে দানা (Skin rash), চুলকানি বা অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে বা অতিরিক্ত মাত্রায় সেবন করলে লিভার ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। রক্তে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন (যেমন: থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া, নিউট্রোপেনিয়া) খুব বিরল ক্ষেত্রে দেখা যায়।
প্যারাসিটামল প্রেগন্যান্সি ক্যাটাগরি ‘বি’ (US FDA) ভুক্ত ওষুধ। গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মাত্রায় প্যারাসিটামল ব্যবহার করা নিরাপদ বলে বিবেচিত। স্তন্যদানকারী মায়েদের দুধে খুব সামান্য পরিমাণ প্যারাসিটামল নিসৃত হয়, যা সাধারণত শিশুর জন্য ক্ষতিকর নয়
বারবিচুরেট, ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট এবং অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনকারীদের ক্ষেত্রে প্যারাসিটামলের মেটাবোলিজম বেড়ে গিয়ে বিষক্রিয়া বা লিভার ড্যামেজের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ওয়ারফারিন বা রক্ত তরলকারী ওষুধের সাথে দীর্ঘমেয়াদে সেবন করলে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে। মেটোক্লোপ্রামাইড ও ডমপেরিডন প্যারাসিটামলের শোষণ বাড়িয়ে দেয়, অন্যদিকে কোলেস্টাইরামিন এর শোষণ কমিয়ে দেয়।
অতিরিক্ত মাত্রায় প্যারাসিটামল সেবন করলে প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বমি বমি ভাব, বমি, ক্ষুধামন্দা, ফ্যাকাসে ভাব এবং পেটে ব্যথা হতে পারে। ২৪-৪৮ ঘণ্টা পর লিভারের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া এবং মারাত্মক লিভার নেক্রোসিস (Liver Necrosis) হতে পারে, যা থেকে লিভার ফেইলিওর বা মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। বিষক্রিয়া সন্দেহ হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে এবং কার্যকর অ্যান্টিডোট (যেমন: N-acetylcysteine) প্রয়োগ করতে হবে।
আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে, ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে (শুষ্ক ও ঠাণ্ডা স্থানে) সংরক্ষণ করুন। সকল ওষুধ শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।